কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো তিনটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় একটি সামাজিক যুব সংগঠন। গত ২৫ অক্টোবর গভীর রাতে সংগঠনের একদল তরুণ সদস্য ও উপদেষ্টারা ছুটে যান করিমগঞ্জ উপজেলার কান্দাইল বাকপাড়া এলাকায়। সেখানে সাম্প্রতিক আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গোলাপ মিয়া, পুরোনো কাগজ বিক্রেতা নূরে আলম এবং গাড়িচালক সাইফুল ইসলামের হাতে জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এই মহতী উদ্যোগের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগঠনের উপদেষ্টা মো. জাকারিয়া।
গত ২২ অক্টোবর দুপুরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সূত্রপাত হয়ে হঠাৎ করেই লেলিহান শিখা গ্রাস করে কৃষক গোলাপ মিয়ার বসতঘর। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন আশপাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবেশী পুরোনো কাগজ বিক্রেতা নূরে আলম ও গাড়িচালক সাইফুল ইসলামের বসতঘরও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে ঘরগুলোতে থাকা নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং টিনের চালার ঘরগুলো পুড়ে একদম ছাই হয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই সর্বগ্রাসী আগুনে তাদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী তাফসিলুল আজিজ, উপদেষ্টা মো. আল আমিন এবং সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ সদস্য আব্দুল কাদির, আজহারুল ইসলাম, মো. রুবেল, সাজু আশরাফ, হানিফ মিয়া ও চান মিয়াসহ অন্যান্যরা। তারা দুর্গত মানুষগুলোর সাথে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে সংগঠনের উপদেষ্টা ও সমাজসেবক মো. জাকারিয়া গণমাধ্যমকে জানান, আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে তিনটি পরিবার আজ সম্পূর্ণ নিস্ব হয়ে পড়েছে। তাদের এই চরম দুর্দিনে প্রাথমিক মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ক্ষতিগ্রস্তদের যে বিশাল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় এই সহায়তার পরিমাণ খুবই সামান্য।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিও তিনি অনুরোধ জানান যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অসহায় পরিবারগুলোকে সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সহায়তা প্রদান করা হয়। এমন সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

