শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ২:০৮ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

কুষ্টিয়ার পদ্মায় ইলিশ রক্ষা অভিযানের মধ্যেই দুই পক্ষের চার ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি

কুষ্টিয়া সদর ও পাবনার ঈশ্বরদী সংলগ্ন পদ্মা নদীতে বালুচর দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি অপরাধী দলের মধ্যে চার ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি হয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নৌ পুলিশের অভিযান চলছিল। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪৪(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১০
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •কুষ্টিয়া ও পাবনা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে দুই পক্ষের চার ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি।
  • •ঘটনার সময় নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের অভিযান চলছিল।
  • •নৌ পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালিত হলেও কোনো হতাহতের খবর নেই।

পদ্মা নদীর বালুচর দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা–সংলগ্ন পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে গত মঙ্গলবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা ধরে কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এই গোলাগুলি চলে। আকস্মিক এই সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় নদীর তীরবর্তী এলাকাবাসী চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ গোলাগুলির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যখন এই দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল, ঠিক সেই সময়ই পদ্মা নদীতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষার বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। ওই অভিযানে নৌ পুলিশের একটি দল এবং জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। নদীর বুকে আকস্মিক এমন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অভিযান দলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ঘটনার সময়ের উত্তপ্ত পরিবেশের আংশিক চিত্র ফুটে উঠেছে, যা ইতিমধ্যে জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবারের ওই ঘটনার সূত্রপাত হয় দুপুর দুইটার দিকে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকার বাসিন্দারা নদীর ভেতর থেকে হঠাৎ করেই কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তের মধ্যে গুলির আওয়াজ বাড়তে থাকায় আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা নদীতে কয়েকটি স্পিডবোটকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলাচল করতে দেখেন, যা এই সশস্ত্র সংঘাতের তীব্রতাই নির্দেশ করে। ঠিক একই সময়ে, অর্থাৎ বেলা আড়াইটার দিকে, মা ইলিশ সংরক্ষণের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেখানে পৌঁছায় উপজেলা প্রশাসনের একটি দল।

অভিযান দলের নেতৃত্বে থাকা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, তারা নৌকায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই গুলির একাধিক শব্দ শুনতে পান। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযانকালে নদীতে মাছ ধরার কোনো বৈধ বা অবৈধ নৌকা তাদের চোখে পড়েনি, তবে তাদের গাড়ির চালক নদীর পাড় থেকে অন্তত তিন থেকে চারটি স্পিডবোটকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যেতে দেখেছেন।

এই ঘটনার পর থেকে কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চলের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বালুচর দখল এবং স্থানীয় অপরাধ চক্রের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কীভাবে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মার চরে নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা চলছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রবাজি ও বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হয়।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: