বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:২০ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

কুষ্টিয়ায় স্টেডিয়ামে সমাবেশের অনুমতি দিল প্রশাসন, তবে জিলা স্কুল মাঠেই অনড় জামায়াত

কুষ্টিয়ায় ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভার জন্য শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জিলা স্কুল মাঠেই সমাবেশ করবে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ৪:০৬(২ দিন আগে)
আপডেট:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১৩
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •কুষ্টিয়ায় লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।
  • •অনুমতিপত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়াসহ মোট আটটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
  • •প্রশাসনের অনুমতি সত্ত্বেও পূর্বঘোষিত জিলা স্কুল মাঠেই সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় রয়েছে জামায়াত।

আসন্ন ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী জনসভার স্থান নির্ধারণ নিয়ে কুষ্টিয়ায় একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এই সমাবেশ করার অনুমতি প্রদান করলেও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের পূর্বঘোষিত স্থান অর্থাৎ কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠেই সমাবেশ করার ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের এই অনুমতিপত্র জারি করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক লংমার্চের সমাপনী জনসভার জন্য শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম বরাদ্দ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ইতিবাচক মতামত ও প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাকিউল আলমের স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রে মোট আটটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা উসকানিমূলক এমন কোনো বক্তব্য না দেওয়া এবং নির্ধারিত স্টেডিয়াম চত্বরের বাইরে অন্য কোনো স্থান ব্যবহার না করা।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

তবে প্রশাসনের এই অনুমতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পরপরই রাত সোয়া ১১টার দিকে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায় জেলা জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি এনামুল হক ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠেই ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে থেকেই ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে জেলা প্রশাসন এবং আয়োজক কমিটির মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও চিঠি চালাচালি চলছিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা অনেক আগেই জিলা স্কুল মাঠের কথা বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং মাঠের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জনসভার নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা শর্তভঙ্গের ঘটনা ঘটলে আয়োজক কমিটিকে তার সম্পূর্ণ দায়ভার নিতে হবে। অন্যদিকে, আয়োজকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি সফল করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। কুষ্টিয়ার এই লংমার্চ এবং সমাপনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত কোন ভেন্যুতে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে স্থানীয়বাসীর।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: