ভারতের পদুচেরি উপকূলে আছড়ে পড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বর্তমানে বেশ ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে এই শক্তিশালী ঝড়টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থলভাগে আঘাত হানার পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে শুরু করেছে। এর ফলে এর সামগ্রিক প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এর আগে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশে বিস্তীর্ণ এলাক জুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের গতি কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশে আশানুরূপ বা পূর্বঘোষিত পরিমাণে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কম হতে পারে।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় বড় ধরনের কোনো ঝড়ের আশঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে রাজধানীতে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে পারে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকলেও সাধারণ জনজীবনে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানেও আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর অগ্রগতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে আবহাওয়া অফিস। সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে স্থানীয় সতর্ক সংকেত পরিস্থিতি বুঝে নামিয়ে ফেলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। জেলে ও নৌযান চালকদের গভীর সমুদ্রে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যদিও ঝড়ের তীব্রতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ায় আতঙ্ক কাটতে শুরু করেছে।
প্রকৃতির এই রূপ পরিবর্তনের ফলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দেশের কৃষি ও সাধারণ অর্থনীতিতে ঘূর্ণিঝড়ের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা কেটে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

