শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ১:১৫ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বিএফআইইউ। ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৫:২৬(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৫
৪ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ।
  • •নতুন গভর্নর নিয়োগের দিনে জোরপূর্বক আদেশে সই করানোর ঘটনায় তদন্ত চলছে তাঁর বিরুদ্ধে।
  • •আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে রাজনৈতিক তদবির করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির সমস্ত ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য তলব করা হয়েছে। দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সম্প্রতি এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে এই দম্পতি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে যে অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করছেন, সেগুলোর হিসাব খোলার ফরম, শুরু থেকে অদ্যাবধি লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণী এবং শেয়ার বা সঞ্চয়পত্রের মতো অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতাবলে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই আকস্মিক তলব অভিযানের পেছনে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত বেশ কিছু গুরুতর অপেশাদার আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা উচ্চপর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, যেদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ এবং নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে জোরপূর্বক ও নানামুখী চাপে রেখে কিছু বিশেষ আদেশে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সক্রিয় একটি কর্মকর্তা চক্রের বিরুদ্ধে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, যার ফলশ্রুতিতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

তদন্তাধীন দ্বিতীয় অভিযোগটি রাজনৈতিক তদবির ও প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা সংক্রান্ত। জানা গেছে, বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে যেন বিএফআইইউ কোনো ধরনের কঠোর punitive ব্যবস্থা বা আর্থিক অনুসন্ধান চালাতে না পারে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালকের দপ্তরে গিয়ে সরাসরি তদবির করেছিলেন মোশাররফ হোসেন। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই তদবির সফল করতে তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের বিশেষ করে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এই বেআইনি তদবিরের বিষয়টি জানাজানি হলে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আকারে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আর্থিক খাতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি অতি সংবেদনশীল ও নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত এবং ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনা সামগ্রিক আর্থিক খাতের সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর এক ধরনের কালিমা লেপন করেছে। দেশের অর্থ পাচার প্রতিরোধে যে বিভাগটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা, সেই বিভাগেরই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি নিজে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে তা পুরো প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিএফআইইউর এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, অপরাধ বা অনিয়ম যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই করুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

আসন্ন দিনগুলোতে এই তদন্ত প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএফআইইউর তলব করা ব্যাংক বিবরণী ও অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর মোশাররফ দম্পতির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বা সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। যদি আনীত অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় শাস্তিই নয়, বরং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: