রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুলিস্তানে ফুটপাথ ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতেই গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটপাথ দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, অস্থায়ী দোকান এবং কাঁচামাল বাজারের অংশবিশেষ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই গুলিস্তান মোড় এবং এর আশেপাশের এলাকায় ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হতো, যা তীব্র যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং ট্রাফিক পুলিশের অনুরোধে এই এলাকায় এই জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগ।
অভিযান চলাকালীন সময়ে কোনো কোনো স্থানে দখলদাররা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে তা টিকেনি। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল পুরো এলাকা ঘিরে রেখে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফুটপাথের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার ফলে দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারী ও ক্রেতারা। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একাংশের পুনর্বাসনের দাবিও উঠেছে এই অভিযانের পর।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুলিস্তান শুধু একটি বাণিজ্যিক এলাকাই নয়, এটি রাজধানীর অন্যতম প্রধান যোগাযোগ হাব। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। তাই এই এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ডিএসসিসির এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। পূর্বে একাধিকবার উচ্ছেদ করা হলেও অসাধু চক্রের সহায়তায় আবারও ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধে এবার স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযান শেষে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল গুলিস্তান নয়, ঢাকার অন্য অঞ্চলেও ফুটপাথ ও সড়ক দখলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। ফুটপাথ দখল করে পুনরায় কোনো অবৈধ বাজার বা স্থাপনা বসানোর চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং স্বস্তিদায়ক পরিবেশ উপহার দিতে সিটি কর্পোরেশনের এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

