লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। নিহত ওই ব্যবসায়ীর পরিচয় ও ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা কিংবা ব্যবসায়িক কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে ওই ব্যবসায়ীকে একটি অপরিচিত বা পরিচিত নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা তাকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর আসল কারণ এবং শরীরে কয়টি গুলি লেগেছিল সে বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফরেনসিক দল।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসীর মধ্যে অপরাধীদের এমন প্রকাশ্য ধৃষ্টতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং খুব দ্রুত রহস্য উন্মোচন করা হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে তা উদঘাটনের জন্য নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট বা কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কার কার সঙ্গে তার শেষ মুহূর্তে কথা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই অপরাধীদের আইনের জালে আটকে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

