ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটিত হত্যাকাদ্ণ্ড পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। চুল কাটার পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডার জেরে রবীন্দ্র মনিঋষি (৪৩) নামের এক নিরীহ নরসুন্দরকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান গেট সংলগ্ন একটি সেলুনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ওই নরসুন্দরের মৃত্যু হয়, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নিহত রবীন্দ্র মনিঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতার নাম রঞ্জিত মনিঋষি। জীবিকার তাগিদে তিনি ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় কাসেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় বাজারে সেলুন পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘ দিন ধরে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত রবীন্দ্র অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং সেলুনে চুল কাটা ও শেভ করার কাজ করেই তাঁর পরিবার চলত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাদ্দাম (২৬) একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। রবীন্দ্রের সেলুনের ঠিক পাশেই সাদ্দামের বাবার একটি মুদিদোকান রয়েছে। ঘটনার দিন সেলুনে চুল কাটার পর পাওনা টাকা পরিশোধ করা নিয়ে রবীন্দ্রের সঙ্গে সাদ্দামের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে সাদ্দাম ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ধারালো চাকু দিয়ে রবীন্দ্রের বুক ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় রবীন্দ্র সেলুনের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত সাদ্দাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিহতের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চুল কাটার সামান্য টাকা চাওয়াই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সাদ্দামকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল তৎপর রয়েছে।
এ ধরনের তুচ্ছ কারণে জীবন হারানোর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক সহনশীলতা কমে যাওয়া এবং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার পেছনের অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

