বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং এর টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ বা অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী। দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আরও সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে নানা ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র সরকারি খাতের একচেটিয়া প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, পুঁজি এবং ব্যবস্থাপনা দক্ষতাকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং সেবার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোকে সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং করতে পারলে তা বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, উন্নত আবাসন সুবিধা এবং পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক অর্থনৈতিক মডেল তৈরি হতে পারে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার সফল বাস্তবায়নে সব অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া দেশের পর্যটন শিল্পের প্রকৃত বিকাশ অসম্ভব। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই খাতকে আরও গতিশীল করা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে পর্যটনকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় থাকলে এই শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

