বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০১ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, যা পুরো পুঁজিবাজারের গতিশীলতাকে মন্থর করে দিচ্ছে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৫১(১ দিন আগে)
আপডেট:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৫
২ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতি
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •তালিকাভুক্ত বেশ কিছু কোম্পানির নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থতা
  • •বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা ও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব
  • •নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের তাগিদ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে বা ধারাবাহিকভাকে লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারে পুঁজি বিনিয়োগ করেন মূলত একটি নির্দিষ্ট লভ্যাংশ বা রিটার্নের আশায়। কিন্তু যখন তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মূলধন আটকে যায় এবং বাজারে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়।

পুঁজিবাজারের বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিগুলোর সুশাসনের অভাব, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ বা মুনাফা অর্জনের সঠিক তথ্য প্রকাশ করলেও বাস্তবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো বজায় রাখতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের প্রতি আস্থার সংকট ঘনীভূত হয়।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ বা অনিয়মিত কোম্পানিগুলোকে নজরদারিতে রাখা এবং তাদের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়মিত নিরীক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল পেতে আরও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং আইনি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি বা লভ্যাংশ দানে অক্ষম, তাদের বিরুদ্ধে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

পরিশেষে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই। তাই লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুঁজিবাজারে সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: