বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:১৪ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানিতে দুই প্রতিষ্ঠানের দর যাচাইয়ে সরকারের নীতিগত অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) গম আমদানির জন্য অনুমোদিত দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাব যাচাই ও দর-কষাকষির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৪:৪৮(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪০
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতি
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানিতে দুটি প্রতিষ্ঠানের দর যাচাইয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
  • •আমদানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল ও লুই ড্রেফাস কোম্পানি।
  • •যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে তথা জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে গম আমদানির প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে দুটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত দরপ্রস্তাব যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সাম্প্রতিক এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। দেশের খাদ্য মজুদ সুদৃঢ় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত খাদ্যশস্য আমদানির ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্যঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার কৌশলগত অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গম রপ্তানিকারক সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি কৌশলগত পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় প্রতিবছর প্রায় সাত লাখ টন মার্কিন গম আমদানির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদার বড় একটি অংশ মেটাতে ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের গম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল নিয়ন্ত্রক বা অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দরপ্রস্তাব আহ্বান ও মূল্যায়ন করা হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো বহুজাতিক কৃষি পণ্য ব্যবসায়ী অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল এবং প্রখ্যাত বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লুই ড্রেফাস কোম্পানি। দীর্ঘ দিন ধরে শুধুমাত্র অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমেই পাঁচ বছর মেয়াদি জিটুজি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি লুই ড্রেফাস কোম্পানিকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে মার্কিন গম সরবরাহের জন্য সরকারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দুটিতে উন্নীত হলো। এই আমদানির পুরো অর্থায়ন করা হবে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

এদিকে আমদানিকৃত গমের মূল্য নির্ধারণ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয় নিয়ে নানা মহলে আলোচনা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সম্পাদিত জিটুজি ব্যবস্থার আওতায় ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২২ মার্কিন ডলার। একই সময়ে উন্মুক্ত দরপত্র বা টেন্ডার পদ্ধতির মাধ্যমে বিকল্প দেশগুলো থেকে প্রতি টন ৫০ হাজার টন গম তুলনামূলক ভিন্নমূল্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে সরকারের কোষাগারের অর্থ সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে গম আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খাদ্যশস্যের দামের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে খাদ্য আমদানি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় একটি কার্যকর কৌশল। তবে আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিত ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে গম আমদানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যপণ্য সরবরাহকেই স্থিতিশীল রাখবে না, বরং দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। আগামী দিনে দর-কষাকষির কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: