বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০২ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিকল্পনা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৫১(১ দিন আগে)
আপডেট:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৬
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতি
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে
  • •বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর নজরদারির পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার
  • •দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ পদক্ষেপের প্রস্তুতি

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয় থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বাজার বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কোম্পানি নিয়মিত মুনাফা অর্জন করলেও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান থেকে বিরত থাকে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুঁজিবাজারের নিয়ামক সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

পুঁজিবাজারের মৌলিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবসা পরিচালনা করে মুনাফা অর্জন করা এবং তার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা। কিন্তু অনেক কোম্পানি বছরের পর বছর ধরে 'জিরো ডিভিডেন্ড' বা নামমাত্র লভ্যাংশ ঘোষণা করে আসছে। এর পেছনে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা, অর্থ পাচার, কর্পোরেট সুশাসনের অভাব এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের স্বার্থপরতা প্রধানত দায়ী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞরা। ফলে বাজারে একধরনের কৃত্রিম মন্দা বিরাজ করে এবং ভালো কোম্পানির শেয়ারও অনেক সময় আস্থার সংকটে পড়ে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানি টানা কয়েক বছর ধরে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত করা কিংবা তাদের ওপর অতিরিক্ত নিরীক্ষা (অডিট) পরিচালনার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। পাশাপাশি, যেসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে অথচ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন যে, লভ্যাংশ বঞ্চিত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইনি প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে এসব কোম্পানির অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং পরিচালক পর্ষদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি এই নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা তাদের ন্যায্য পাওনা প্রাপ্তির বিষয়ে আশাবাদী হতে পারবেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই কঠোর নজরদারির ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে লভ্যাংশ প্রদানে অনিহা প্রকাশ করে বা আর্থিক প্রতিবেদন জালিয়াতি করে, তাদের দৌরাত্ম্য কমবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এই ধরনের সুশৃঙ্খল ও নীতিনির্ধারক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: