শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ১:১৪ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণচাহিদায় তীব্র চাপে আর্থিক বাজার, বাড়বে সুদ পরিশোধের বাড়তি বোঝা

সরকারের অতিরিক্ত ঋণচাহিদার কারণে দেশের আর্থিক বাজার দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চাপে রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর সুদ পরিশোধের বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৫:১০(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:১৫
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতি
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •সরকারের অতিরিক্ত ঋণচাহিদার ফলে দেশের আর্থিক খাতে ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
  • •বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ায় সার্বিক বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
  • •ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ায় ভবিষ্যতে জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশ সুদ মেটাতে ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের আর্থিক খাতে সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণচাহিদা এক নতুন ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি সিকিউরিটিজের চাহিদা ও জোগান বৃদ্ধির ফলে সার্বিক তারল্য ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে শ্লথগতি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি বজায় রাখতে গিয়ে সরকারকে প্রতিনিয়ত ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায় সুদের হারের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে, যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি সার্বিক বিনিয়োগের পরিবেশকে মন্থর করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ঋণ গ্রহণের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঋণ নেওয়ার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে বেসরকারি খাতে বিতরণের মতো পর্যাপ্ত তারল্য বা নগদ অর্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ঋণ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাশাপাশি, সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির ফলে সরকারকে প্রতিবছর বাজেটের একটি বিশাল অংশ কেবল ঋণের সুদ পরিশোধের পেছনেই ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উন্নয়নমূলক খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

অর্থনৈতিক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের রাজস্ব ঘাটতি কমাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা কমিয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং করের আওতা সম্প্রসারণ করা না গেলে সরকারের ঋণগ্রহণের এই চক্র চলতেই থাকবে। বিশেষ করে কর ফাঁকি রোধ এবং অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার পাশাপাশি করপোরেট ও প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি আরোপ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কঠোরভাবে পালন করা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে।

ভবিষ্যতে ঋণের সুদ পরিশোধের এই ক্রমবর্ধমান বোঝা সামলানো সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি বর্তমান ধারায় ঋণ গ্রহণ অব্যাহত থাকে, তবে জাতীয় বাজেটের একটি বিরাট অংশ শুধুমাত্র পুঞ্জীভূত ঋণের সুদ মেটাতেই বরাদ্দ রাখতে হবে। এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ও উৎপাদনশীল খাতগুলোর বাজেটকে সংকুচিত করে দিতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা আর্থিক খাতের সংস্কার এবং মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে আরও সুসংহত সমন্বয় সাধনের পরামর্শ দিয়েছেন। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান আকর্ষণে কূটনৈতিক ও দাপ্তরিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতা রক্ষা করতে দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী আর্থিক কৌশল বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: