শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ১:১৬ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

চিকিৎসার অতিরিক্ত খরচ ও ভর্তুকি সংকটে দেশের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য বহুমুখী চাপে

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, চিকিৎসাবাবদ নিজস্ব খরচের কারণে দেশে কোটিাধিক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। অন্যদিকে, সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি বকেয়া থাকায় কৃষি খাতে সার আমদানিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৫৬(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:০৫
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতি
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •চিকিৎসাবাবদ অতিরিক্ত খরচের কারণে ২০২২ সালে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন।
  • •চিকিৎসায় আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি।
  • •সার আমদানিতে সরকারের কাছে ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা ভর্তুকি বকেয়া থাকায় বিএডিসির এলসি খোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিত্রা পোস্ট ডেস্কের বিশেষ বিশ্লেষণ: দেশের অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্য খাত বর্তমানে বহুমুখী ও জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় যৌথ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিকিৎসাবাবদ ব্যক্তিগত বা নিজস্ব খরচের (আউট-অব-পকেট এক্সপেন্ডিচার) কারণে বাংলাদেশের এক কোটি আট লাখেরও বেশি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সুইডিশ দূতাবাসের সহায়তায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালিত এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় দশমিক চার শতাংশ মানুষ এই দুর্বিষহ আর্থিক সংকটের শিকার হয়েছেন। ২০০৫ সালে চিকিৎসাবাবদ ব্যয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার এই হার ৫৬ লাখ বা তিন দশমিক নয় শতাংশ থাকলেও, বর্তমান সময়ে তা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই দীর্ঘ সময়ে দেশের সার্বিক জাতীয় দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৪০ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, তবুও স্বাস্থ্যসেবার চড়া দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যখন কোনো পরিবারের চিকিৎসাবাবদ নিজস্ব ব্যয় তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর অবশিষ্ট আয়ের ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তখন সেই পরিবার মারাত্মক আর্থিক সংকটে পতিত হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের সংকটের মুখে পড়া মানুষের হার ২০০৫ সালের ২৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে প্রায় ৪১ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই হার বৈশ্বিক গড় হার ২৬ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব, ওষুধের উচ্চমূল্য এবং বেসরকারি হাসপাতালের লাগামহীন খরচের কারণে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। অনেক পরিবার জমানো সম্বল বিক্রি কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চিকিৎসা করতে গিয়ে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

জনস্বাস্থ্যের এই সংকটের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতেও বড় ধরনের আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সার আমদানির জন্য সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির টাকা আটকে থাকায় ব্যাংকঋণ পরিশোধের তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিএডিসির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সরকারের কাছে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া ভর্তুকির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অপরদিকে, নন-ইউরিয়া সার আমদানির বিপরীতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বিএডিসির মোট দায় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বেশি। ভর্তুকির এই বিশাল অর্থ সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংকগুলো নতুন করে ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যা আসন্ন বোরো মৌসুমে সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি খাতের এই অচলাবস্থা নিরসন করা না গেলে তা খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সময়মতো সার আমদানি, বন্দর থেকে খালাস এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় তা বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তুকির বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বাস্থ্য খাতের অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি খাতে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার মাধ্যমেই কেবল বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: