বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:১৩ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

সরকারের ঋণচাহিদায় আর্থিক বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ, ভবিষ্যতে বাড়ছে সুদ পরিশোধের বিশাল বোঝা

সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণচাহিদার কারণে দেশের আর্থিক বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সুদ পরিশোধের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৫:০৯(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৫
২ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতি
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •সরকারের অতিরিক্ত ঋণচাহিদায় আর্থিক বাজারে তারল্য সংকট তীব্র হচ্ছে।
  • •বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন বিনিয়োগ।
  • •ভবিষ্যতে রাজস্বের একটি বড় অংশ চলে যাবে ঋণের সুদ পরিশোধে।

দেশের আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের ধারাবাহিক ও উচ্চহারের ঋণচাহিদার কারণে বাজারের সামগ্রিক তারল্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা কেবল সরকারি ব্যয়কেই স্ফীত করবে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর একটি সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গত কয়েক অর্থবছর ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রকৃত অর্জনের ব্যবধান বাড়ার কারণে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে মূলত ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকেই বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করছে সরকার। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিনিয়োগের গতি মারাত্মকভাবে মন্থর হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন যে, ব্যাংকগুলোর সিংহভাগ তহবিল সরকারের কাছে চলে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় মূলধন পাচ্ছেন না। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে শ্লথগতি নামিয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু বর্তমানের বাজার চাপই নয়, এই উচ্চ সুদের ঋণ গ্রহণের সবচেয়ে বড় আঘাত আসবে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর। আগামী দিনগুলোতে এই বিশাল ঋণের মূলধনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মতো জনকল্যাণমূলক বাজেট বরাদ্দকে সংকুচিত করতে বাধ্য করবে। ফলস্বরূপ, রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশই চলে যাবে কেবল ঋণের সুদ মেটানোর কাজে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প স্থগিত করা এবং কর জালের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় দেশের আর্থিক খাতের এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলতে পারে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: