যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর জোরালো ও প্রকাশ্য সমর্থনের ফলেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবারের সংসদীয় নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং ওয়াশিংটন-টেল আভিভ সম্পর্কের সমীকরণে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের এমন দাবি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবং দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেটের নির্বাচনে প্রাপ্ত বুথফেরত জরিপ এবং প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে যে, দেশটির কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে সরকার গঠনের জাদুসংখ্যা বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির ডানপন্থী জোট তুলনামূলকভাবে ভালো করলেও প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি।
নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ৫৬টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এবং বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট অর্জন করেছে ৪৮টি আসন। এছাড়া, আরব দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট বা আরব লিস্ট দখল করেছে ১৬টি আসন। এই ত্রিমুখী ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে ইসরায়েলি রাজনীতিতে এখন ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে কেউ সফল না হওয়ায় ইসরায়েলে সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ সপ্তাহ কিংবা মাসব্যাপী দর–কষাকষি ও সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। অতীতেও ইসরায়েলে এ ধরনের ঝুলন্ত পার্লামেন্টের কারণে একাধিকবার সরকার গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দর–কষাকষি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন যে, নেতানিয়াহুর এই টিকে থাকা বা ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে তাঁর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, তিনি এমন একজন নেতা যিনি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথাই চিন্তা করেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ইসরায়েলি ভোটারদের একাংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনী ফলাফলের পর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে ছোট দলগুলোকে নিয়ে একটি জোটে যেতে হবে অথবা বিরোধী শিবিরের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চালাতে হবে। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এবং মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


