শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:০০ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

চলচ্চিত্রের সেটে অনধিকার প্রবেশের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন জেনিফার লরেন্স

হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সেটে অননুমোদিত কর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি মনে করেন, নবীন অভিনেত্রীদের সুরক্ষার জন্য কর্মক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

চিত্রা পোস্ট সম্পাদকীয় পরিষদ
প্রকাশ:শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৬(১ ঘণ্টা আগে)
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক
বিনোদন
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট অনলাইন ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে সেটে অননুমোদিত কর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করে তীব্র প্রতিবাদ জানান জেনিফার লরেন্স।
  • •তিনি মনে করেন, নবীন ও অনভিজ্ঞ শিল্পীদের সুরক্ষার জন্য কর্মক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমানা থাকা দরকার।
  • •চলচ্চিত্রের সেটে ঘনিষ্ঠ ও স্পর্শকাতর দৃশ্যের শুটিংয়ে পেশাদার নিরাপত্তা ও সম্মতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হলিউডের জনপ্রিয় ও অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স রূপালি পর্দার নানা চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের জন্য পরিচিত। ক্যামেরার সামনে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়, তবে এর সঙ্গে জড়িত পেশাদার গোপনীয়তা এবং সম্মান রক্ষায় তিনি সবসময় আপসহীন। সম্প্রতি এক জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি অতীতের এক অস্বস্তিকর ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। লরেন্স জানান, একবার একটি অতি গোপনীয় ও স্পর্শকাতর দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন তিনি লক্ষ্য করেন যে সেটে এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছেন, যাদের সেখানে থাকার কোনো বৈধ অনুমতি বা প্রয়োজন ছিল না। এই বিষয়টি তাঁর পেশাদার মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত ছিল।

পরিস্থিতিটি উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গেই জেনিফার লরেন্স কোনো রাখঢাক না রেখে কঠোর প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, পেশাদার অভিনয়শিল্পীদেরও একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি ও গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যায় না। পরবর্তীতে পডকাস্টে আলাপকালে তিনি জানান যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের কাজের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে চুল কাটা, শরীরের গঠন পরিবর্তন বা রূপ বদলানোর মতো সাধারণ বিষয়গুলো অভিনয়ের অংশ হলেও, শুটিং সেটে শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর সঙ্গে কোনো আপস চলে না।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

নিজের এই প্রতিবাদের পেছনে একটি বড় সামাজিক ও পেশাগত কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন লরেন্স। তিনি মনে করেন, একজন প্রতিষ্ঠিত এবং অভিজ্ঞ তারকা হিসেবে যদি তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলেন, তবে তা ভবিষ্যতে সেটে আসা নবীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিল্পীদের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। আঠারো বছর বয়সী কোনো নতুন অভিনেত্রী যখন প্রথমবার এমন কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে, তখন সে ভয়ে কিংবা সামাজিক চাপে মুখ খুলতে পারে না। তার মনে হতে পারে যে প্রতিবাদ করলে তাকে জটিল বা বদরাগী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ঠিক এই কারণেই জেনিফার লরেন্স মনে করেন যে জ্যেষ্ঠ শিল্পীদেরই এই অসম্মানজনক সংস্কৃতি বদলানোর দায়িত্ব নিতে হবে।

এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্রের সেটে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়কার সুরক্ষা এবং পারস্পরিক সম্মতির বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন লরেন্স। কিছুদিন আগে ‘ডাই মাই লাভ’ সিনেমায় জনপ্রিয় অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান যে সহশিল্পীদের সঙ্গে দৃশ্য ধারণের সময় স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও সেটে 'ইন্টেন্সি বা কো-অর্ডিনেটর' বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ নিরাপদ করার চেষ্টা করছে, যা অভিনয়শিল্পীদের কাজের চাপ অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান কর্মপরিবেশ এবং নীতিমালায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তারকাদের এমন সোচ্চার ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জেনিফার লরেন্সের এই সাহসী পদক্ষেপ কেবল তাঁর নিজের আত্মসম্মান রক্ষাই করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কর্মপরিবেশ এবং শুটিং সেটে পেশাদার শিষ্টাচার বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি জোরালো বার্তা দিয়েছে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সমালোচকরাও তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যা ভবিষ্যতে তরুণ শিল্পীদের অধিকার সুরক্ষায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: