বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:১৫ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: ছয়টি সহযোগিতা চুক্তি ও ২৯ কোটি ডলারের বেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি

জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে একটি অনুদানসহ ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি ও স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টোকিও। বুধবার রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্ব
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৫:২৯(১ দিন আগে)
আপডেট:বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১০
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
স্বাস্থ্য
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে একটি অনুদানসহ মোট ছয়টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
  • •উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের অনুদান দিচ্ছে জাপান।
  • •দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টোকিও।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে একটি অনুদান চুক্তিসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিশেষ প্রকল্পে প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে জাপান সরকার। বুধবার রাতে টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপপ্রেসসচিব শাহাদাত স্বাধীন এসব তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও স্মারকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে একটি আধুনিক টহল জাহাজ সরবরাহের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানা রক্ষা ও চোরাচালান রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এর ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণার ক্ষেত্র প্রসার এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে 'এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম' (ইএসডিপি) বিষয়ক একটি বিশেষ সহযোগিতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় সবুজ জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের আরও উন্নয়ন সাধনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপানি পক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তির সঙ্গে এই চুক্তি ও ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধিই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে আরও দৃঢ় করবে। সফর শেষে প্রতিনিধিদলের দেশে ফেরার পর এসব চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট: