ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের পরাজয় দাবি করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং আরব দলগুলোকে হিসাবের মধ্যে ধরলে বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬৫টিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জোরালো বার্তায় গোলান ইসরায়েলি রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণের কথা তুলে ধরেছেন এবং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তির ওপর জোর দিয়ে বিরোধী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
চলমান ভোট গণনার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে প্রায় ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন এবং বিভিন্ন আরব দলগুলো পেতে পারে প্রায় ১৯টি আসন। এই হিসাবের ভিত্তিতেই বিরোধী দলের নেতারা নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইয়াইর গোলান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু যদি পুনরায় কোনো উগ্র জাতীয়তাবাদী বা জায়নবাদী জোট গঠনের চেষ্টা করেন, তবে তাঁকে নিজের জোটের কট্টর ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর ১৬ জন সংসদ সদস্যকে বাদ দিতে হবে। নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেডিকাল ও কট্টরপন্থী রাজনীতির অবসান ঘটাতে ইসরায়েলি ও আরব নাগরিকদের যৌথ অংশীদারত্বে একটি পরিবর্তনকামী সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, এই সরকার দেশের সব নাগরিকের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং চলমান বিভাজনের রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্তি দেবে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি বামপন্থীদের প্রভাবশালী দল জয়েন্ট লিস্টের প্রার্থী ইউসুফ জাবারিনও বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নেতানিয়াহু প্রশাসনের রক্তপাত, আধিপত্য, বর্ণবাদ ও বর্জনের রাজনীতির বিপরীতে তাঁরা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক রাজনৈতিক বিকল্প উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। জাবারিনের মতে, প্রকৃত ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে ইহুদি-আরব অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা অতীতে নানা সমীকরণে ভিন্নমাত্রা যোগ করলেও এই প্রথম সরকার গঠনে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এত জোরালো আলোচনা হচ্ছে। ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী জোট গঠনের প্রক্রিয়া ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিরোধীদের এই ঐক্য প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ে ইতি টানতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




