ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটের ঠিক আগের দিন বুধবার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দেলাওয়ার হোসেন। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এই শূন্য আসনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং জয় ছিনিয়ে আনতে শেষ মুহূর্তেও প্রচারে ও কৌশলগত অবস্থানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। তবে ভোটের আগের দিন দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে কিছুটা হলেও সরগরম করে তুলেছে।
বুধবার বিকেলে শহরের একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন যে, প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তাঁর গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করে উল্টো জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনেন।
এদিকে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া যেকোনো অনিয়ম রোধে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ মোট ১৭৭ জন দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

