চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মো. ফারুক নামের ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। স্থানীয় বাজার কমিটির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে দলটির সমর্থন ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার রাতে উপজেলার ব্যস্ততম আধুনগর বাজারে এই ঘটনা ঘটে এবং এর একটি ভিডিও ক্লিপ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. ফারুক লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের গাটিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নিয়মিত রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভিডিও পোস্ট করার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার একটি পরিচিতি রয়েছে। তবে গত সোমবার আধুনগর বাজার কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন দেখা দেয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থকেরা পৃথক প্রার্থীদের সমর্থন জানান। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হলে তাতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হন।
নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মো. ফারুক। তাঁর অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় কথা দিয়েও তাঁদের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেননি। ফলাফল প্রকাশের পরপরই নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই ভিডিওতে তিনি দলটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন এবং তাদের কার্যক্রমের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন।
ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হননি মো. ফারুক। ওই দিন রাতেই তিনি আধুনগর বাজারে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। গোসল করার সময় আশপাশে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন এবং হাততালি দিয়ে তার এই অভিনব প্রতিবাদকে সমর্থন জানান। পরে এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা হলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে নানা ধরনের হাস্যরস ও আলোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মো. ফারুক জানান যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদধারী নেতা বা সক্রিয় কর্মী ছিলেন না, তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলটিকে আদর্শগতভাবে সমর্থন করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে আধুনগর ইউনিয়নে দলটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও ওয়াদা ভঙ্গের কারণে তিনি চরমভাবে হতাশ হয়েছেন। সেই হতাশা এবং ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রতীকী এই প্রতিবাদ হিসেবে দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান। এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

