বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচিত মুখ এবং রহস্য স্পিনার হিসেবে পরিচিত আলিস ইসলাম তার বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা প্রমাণের জন্য ভারতের চেন্নাই অভিমুখে যাত্রা করছেন। সম্প্রতি তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় তাকে অফিসিয়ালি পরীক্ষাগারে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ক্রিকেট মহলে তার এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বোলিং অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত না হলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কয়েকজন বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তাদের অনেকেই চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র আর্থোপেডিক অ্যান্ড স্পোর্টস ইনজুরিপ সেন্টার (এসআরএসি)-এ পরীক্ষা দিয়েছেন। এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক অনুমোদিত পরীক্ষাগারগুলোর অন্যতম, যেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বোলারের কনুইয়ের বাঁক পরীক্ষা করা হয়। নিয়মানুযায়ী, বোলিং করার সময় কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকানো যাবে না। আলিস ইসলামকেও এই নির্দিষ্ট মাপকাঠির মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অসাধারণ স্পিন ভ্যারিয়েশন দিয়ে নজর কাড়া আলিস ইসলাম বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এই আইনি প্রক্রিয়া বা টেকনিক্যাল মূল্যায়নের মুখোমুখি হওয়া তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। চেন্নাই ল্যাবরেটরির টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা তার বোলিংয়ের প্রতিটি ফ্রেম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবেন এবং তাদের রিপোর্ট আইসিসির কাছে জমা দেবেন।
বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় পাস করতে পারলে আলিস ইসলামের সামনে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পথ আরও সুগম হবে। অন্যথায়, যদি বোলিং অ্যাকশনে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে তাকে বোলিং অ্যাকশন শুধরে নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে এবং একজন উদীয়মান স্পিনারের ক্যারিয়ার সুরক্ষায় এই পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সংশ্লিষ্ট কোচিং স্টাফরা আলিস ইসলামের এই পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করছেন। তার বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের কাজ ইতোমধ্যে ঘরোয়া পর্যায়ে করা হয়েছে। এখন কেবল চেন্নাইয়ের ল্যাব থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষা। ক্রিকেটপ্রেমী ও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নজর এখন চেন্নাইয়ের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই প্রতিভাবান স্পিনারের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।


