বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলের ভেতরে ঘটে যাওয়া চুরির একটি অনভিপ্রেত ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হলের মতো সুরক্ষিত একটি স্থানে এ ধরনের চুরির ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দুই ছাত্রী জানান, তাদের অনুপস্থিতিতে বা ঘুমের সময়ে অত্যন্ত সুকৌশলে কক্ষের তালা ভেঙে মূল্যবান সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চুরি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে কড়া নিয়ম থাকার কথা থাকলেও তা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার হলের ভেতরে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যথাযথ তদারকি এবং সিসি ক্যামেরা বা পর্যাপ্ত প্রহরীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা বারবার এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
চুরির শিকার শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারা অবিলম্বে হলের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের সচেষ্ট ভূমিকা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের ভাষ্যমতে, অভিভাবকরা তাদের পড়াশোনার জন্য নিরাপদে থাকার উদ্দেশ্যে হলে পাঠান, কিন্তু যদি হলের ভেতরেই শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকে, তবে তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে হলের নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

