স্থানীয় নির্বাচনী উত্তাপ ও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন চলছে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে গণনা করা বিশটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তার এই শক্ত অবস্থান নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সমর্থকদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় ভোট গণনা প্রক্রিয়া। একে একে ফলাফল আসতে শুরু করলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মির্জা ফয়সল প্রতিটি কেন্দ্রেই তুলনামূলকভাবে ভালো ভোট পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশটি কেন্দ্রের মোট প্রদত্ত ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের প্রায় দ্বিগুণ। এই ব্যবধান বজায় থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক এই ফলাফল নির্বাচনী হাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফলের দিকে গভীর নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে এখনো ভোট গণনা বাকি রয়েছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কেমন করেন এবং ভোটারদের চূড়ান্ত রায় কোন দিকে যায়, তা নির্ধারণ করবে শেষ হাসি কে হাসবেন। তা সত্ত্বেও, প্রথম ২০ কেন্দ্রের এই বড় ব্যবধান মির্জা ফয়সলের প্রচারণামূলক কৌশল এবং সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া পাহারা এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয়। প্রার্থীর পক্ষে ও বিপক্ষে নিয়োজিত পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতেই প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে, ফলে গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে তা পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর খবরের ওপর নির্ভর করবে। তবে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সলের জয় অনেকটাই সুনিশ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। প্রার্থীর প্রধান কার্যালয় থেকে কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

