শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ৩:০৮ভিডিও
পছন্দের টপিক পিন করে সাজিয়ে নিন

আমাজনের ঘন জঙ্গলে প্রাচীন সভ্যতার সন্ধান: লেজার প্রযুক্তিতে মিলল লাখো মানুষের বসতির প্রমাণ

ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলের গভীরে শত শত প্রাচীন মাটির কাঠামো বা জিওগ্লিফ আবিষ্কার করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষক দল। আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত এই গবেষণায় জানা যায়, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষের এক সমৃদ্ধ সভ্যতা বসবাস করত।

স্ব
প্রকাশ:বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১৫(১ দিন আগে)
আপডেট:শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ২:০৭
৩ মিনিট পাঠ
সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:
ছবি: চিত্রা পোস্ট স্পোর্টস ডেস্ক
খেলা
বড় করে দেখুন
ছবি: চিত্রা পোস্ট স্পোর্টস ডেস্কচিত্রা পোস্ট ভেরিফাইড
📌এক নজরে মূল বিষয়গুলো:
  • •আমাজনের গভীরে শত শত প্রাচীন মাটির কাঠামো বা জিওগ্লিফ আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা।
  • •আধুনিক লেজার প্রযুক্তি বা লাইডার ব্যবহার করে ঘন জঙ্গলের নিচে এই প্রাচীন সভ্যতার সন্ধান মিলেছে।
  • •গবেষকদের অনুমান, প্রাচীন এই সমাজে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস ছিল এবং তারা প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বসবাস করত।

ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলের দুর্গম গভীরে লুকিয়ে থাকা শত শত প্রাচীন মাটির কাঠামো আবিষ্কার করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষক দল। আধুনিক লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত এই যুগান্তকারী গবেষণায় জানা গেছে যে, হাজার হাজার বছর আগে এই ঘন বনে লাখ লাখ মানুষের এক উন্নত ও সমৃদ্ধ সভ্যতা বসবাস করত। স্পেন, ফিনল্যান্ড, ব্রাজিল ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ দল এই গবেষণা পরিচালনা করে, যার বিস্তারিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিষ্কার আমাজন সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে এবং প্রাচীন মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

গবেষণায় 'লাইডার' বা লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং নামক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে গবেষকরা ঘন জঙ্গলের ছাউনি ভেদ করে মাটির উপরিভাগের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম হন। এর ফলে গাছপালা না কেটে বা প্রতিটি এলাকায় সশরীরে না গিয়েই বিশাল এলাকা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। আমাজনে এটিই প্রথম কোনো উচ্চাভিলাষী লাইডার জরিপ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জরিপ চালিত চার হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৪৩২টি বিশাল ভূ-লিপি বা জ্যামিতিক নকশা শনাক্ত করা হয়েছে, যার অধিকাংশই পূর্বে কখনো নথিবদ্ধ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
সংবাদ ইন-কনটেন্ট ব্যানার

ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, এই কাঠামোসমূহ ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। তথাকথিত অ্যাকুইরি সভ্যতার মানুষেরা প্রায় এক লাখ ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যার আয়তন বর্তমানকালের কম্বোডিয়া বা সিরিয়ার সমান। বিশেষ করে, ১০০ থেকে ৩৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই সভ্যতার সর্বোচ্চ সমৃদ্ধির সময়ে এখানে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে তৎকালীন সমাজে সুসংগঠিত শ্রম বিভাজন এবং উন্নত প্রকৌশল বিদ্যার প্রচলন ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই অঞ্চলটিতে পাথরের অনুপস্থিতির কারণে কাঠামোগুলো তৈরি করতে প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম ও কাঠ বা ঝুড়ির মতো প্রাথমিক মাধ্যমের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। ১৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া এবং পাঁচ মিটার গভীর নালাগুলো নির্মাণের জন্য গণিত ও জ্যামিতি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল। পূর্বে ধারণা করা হতো যে এই ভূ-লিপিগুলো প্রতিরক্ষামূলক দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে বর্তমান বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো মূলত আচার-অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং মানুষের মহামিলন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা নির্দেশ করে যে ওই সময়ে জনগোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামূলক শান্তি বিরাজমান ছিল।

এই প্রাচীন সভ্যতার মানুষ প্রকৃতির সাথে অত্যন্ত সুসংগত জীবনযাপন করত বলে গবেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। তারা কখনো আস্ত রেইনফরেস্টকে বৃক্ষহীন প্রান্তরে পরিণত করেনি, বরং নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে ভুট্টা, স্কোয়াশ ও ম্যানিওক চাষের জন্য যতটুকু বন পরিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল ঠিক ততটুকুই কেটেছিল। শতাব্দী ধরে এই কাঠামো অত্যন্ত যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যা তাদের সুদীর্ঘ সঞ্চিত জ্ঞান এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় বহন করে। এই আবিষ্কার আমাজনের ইতিহাস পুনর্লিখনে এবং প্রাচীন জনবসতির টিকে থাকার কৌশল বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সংবাদটি শুনুনস্বয়ংক্রিয় এআই অডিও রিডার
শেয়ার:
ফন্ট:

আরও পড়ুন এই বিভাগের সংবাদ

বাপাললো বিলসের তারকা ডায়ন ডকিন্সের মানবিক উদ্যোগ: ঝরে পড়া তরুণদের দিচ্ছেন নতুন জীবনের সুযোগ
খেলা

বাপাললো বিলসের তারকা ডায়ন ডকিন্সের মানবিক উদ্যোগ: ঝরে পড়া তরুণদের দিচ্ছেন নতুন জীবনের সুযোগ

আমেরিকান ফুটবল লিগের শীর্ষস্থানীয় দল বাফালো বিলসের তারকা খেলোয়াড় ডায়ন ডকিন্স সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও কারামুক্ত তরুণদের কল্যাণে কাজ শুরু করেছেন। মেন্টরশিপ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি তাদের জীবনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন।

১২ অক্টোবর ২০২৬