ইংলিশ ফুটবলে এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় অধ্যায়ের জন্ম হলো কারাবাও কাপের ম্যাচে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অঘটনের শিকার হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েছে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। ইংল্যান্ডের ফুটবল পিরামিডের টেবিলে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে ব্যবধান ছিল দীর্ঘ ৮৪ ধাপ। ম্যাচ শুরুর আগে বাজি ধরার বাজারেও আর্সেনালের আধিপত্য ছিল একচ্ছত্র। কিন্তু হাইবুরি স্টেডিয়ামে সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে চতুর্থ স্তরের ক্লাব ফ্লিটউড টাউন। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা একে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম দুঃখের দিন বলে মন্তব্য করেছেন।
ম্যাচ শুরুর প্রথমার্ধে বেশ কিছু অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয় দর্শক ও খেলোয়াড়েরা। চ্যাম্পিয়ন দলকে মাঠে আতশবাজির ঝলকানিতে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হলেও, খেলার শুরুর দিকেই স্টেডিয়ামের ওপর ড্রোন উড়তে দেখা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে খেলা স্থগিত করেন এবং খেলোয়াড়দের কিছুক্ষণের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রায় আট মিনিট পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় খেলা শুরু হয়। এই অপ্রত্যাশিত বিরতি এবং মাঠের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে আর্সেনালের ছন্দ কিছুটা পতন ঘটে, যার পূর্ণ সুযোগ নেয় স্বাগতিক ফ্লিটউড।
ম্যাচের একুশতম মিনিটে ফরোয়ার্ড অ্যারন লুপালোর চমৎকার গোলে এগিয়ে গিয়ে হাইবুরি স্টেডিয়ামে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় গানার্সরা। ম্যাচের বয়স যখন পঞ্চাশ মিনিট, তখন ভিক্টর ইয়োরকেরেসের দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরায় আর্সেনাল। নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে উভয় দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায় আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে ৮৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তরুণ মিডফিল্ডার ম্যাক্স ডাউম্যান, ফলে শেষ কয়েক মিনিট ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্সেনাল।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতা থাকার পর ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। আর এই স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে জয়ের নায়ক বনে যান ফ্লিটউড গোলকিপার জে লিঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকেও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের আশাবাদ বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। শুটআউটেও অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ব্রুনো গিমারায়েসের শট রুখে দেন লিঞ্চ। এরপর কিশোর ডিফেন্ডার কনর হহি নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ফ্লিটউডের ঐতিহাসিক ও রূপকথার মতো জয় নিশ্চিত করেন।
এই পরাজয়ের ফলে আর্সেনালের ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন বড় ধরনের ধাক্কা খেল। কোচ মিকেল আরতেতার শিষ্যদের পারফরম্যান্স নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে। অন্যদিকে, নিম্ন স্তরের একটি দলের এমন লড়াকু মানসিকতা এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা ইংলিশ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ঐতিহ্যকে আবারও প্রমাণ করল। এই জয় ফ্লিটউড টাউন ক্লাবের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে রাখবে।


