কয়েক বছর আগেও উত্তরবঙ্গের ছোট্ট জেলা জলপাইগুড়ির তনুশ্রী রায় দাসের পরিচয় সীমাবদ্ধ ছিল একজন সাধারণ গৃহিণী ও মা হিসেবে। কিন্তু করোনার মহামারি ও লকডাউনের সময় নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করার জেদ থেকেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে শাড়ি, গয়না ও নানা অনুষঙ্গ বিক্রি শুরু করেন তিনি। তাঁর সহজাত উপস্থাপনা ও আকর্ষণীয় কথাবার্তার ধরন খুব দ্রুতই ক্রেতাদের নজর কাড়ে, যা তাঁর ব্যবসার পরিসর বাড়াতে সাহায্য করে। অনলাইন ব্যবসার এই সফলতার পথ ধরে তিনি পরবর্তীতে জলপাইগুড়ির মার্চেন্ট রোডে বোনকে সঙ্গে নিয়ে একটি বুটিকও চালু করেন।
তনুশ্রীর ব্যক্তিগত জীবনও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। অত্যন্ত অল্প বয়সে মাত্র ষোলো বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। তবে প্রতিকূল পারিবারিক পরিস্থিতিতেও তিনি থামিয়ে রাখেননি তাঁর শিক্ষাজীবন। সংসার ও সন্তানের লালনপালনের ব্যস্ততার মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং জলপাইগুড়ির প্রসন্নদেব মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে ভূগোলে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার জেদই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইন ব্যবসার সুবাদে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের ক্রেতাদের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠেন এই উদ্যোক্তা। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন তিনি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরের প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচিত হন। শোটিতে তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, স্পষ্টভাষী মনোভাব এবং সত্যি কথা উঁচু গলায় বলার সাহসিকতা তাঁকে দর্শকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা এনে দেয়। রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে তাঁকে নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
শোয়ের সঞ্চালক ও ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব সৌরভ গাঙ্গুলীও তনুশ্রীর বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসা করেছেন। তিনি তনুশ্রীকে একজন সফল মা, উদ্যোক্তা এবং গ্ল্যামারাস ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে এত বড় একটি জাতীয় স্তরের প্ল্যাটফর্মে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া তনুশ্রীর এই যাত্রা উত্তরবঙ্গের অনেক নারীর জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে।
‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে প্রবেশ করার পর থেকেই তনুশ্রীর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তাঁর ঝকঝকে উপস্থিতি এবং ঘরোয়া অথচ আধুনিক মানসিকতা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি বিনোদন জগতের এই নতুন পরিমণ্ডলে তিনি কীভাবে নিজেকে মেলে ধরেন এবং প্রতিযোগিতায় কতদূর এগোতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

