বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর আসল রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি জানান। পাশাপাশি সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে দলটির পক্ষ থেকে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, যেকোনো নাগরিকের জীবন ও সুরক্ষার মৌলিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রীয় এই গুরুদায়িত্ব পালনে কেউ ব্যর্থ হলে বা অবহেলা প্রদর্শন করলে তারা কোনোভাবেই দায়মুক্তি পেতে পারে না। তাহসিফ সাউরির শোকাহত পরিবার যেন কোনো অবস্থাতেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব এখন রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তুরাগ নদ থেকে সাবেক এই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা এবং পেশাগত গাফিলতির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর সাবেক একজন কর্মকর্তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর বড় ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রমাণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তাদের দায় এড়াতে পারে না।
বিবৃতিতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, যে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো বা গোয়েন্দা বিভাগগুলো একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারাই আবার প্রায়শই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভুয়া, কাল্পনিক ও আজগুবি তথ্য প্রচার করে সাধারণ দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে এই ধরনের অপতৎপরতা অত্যন্ত হাস্যকর এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বারবার মায়ের ফোন পেয়ে তাহসিফ সাউরি বাড়ি ফিরে আসার কথা জানালেও পরদিন তাঁর মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল, কোন পরিস্থিতিতে তিনি এই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন এবং এর পেছনে অন্য কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মাঝে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে মনে করছে দলটি।

